শ্যামনগর অফিসঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালীতে ১ সন্তানের জননী গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই গৃহবধূ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের মেয়ে।

ভূক্তভোগীর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী গ্রামের ইব্রাহিম কয়ালের পুত্র নাজমুল কয়ালের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্ক গড়ে উঠার পর ওই নারীর সাথে নাজমুল খুলনাতে দুই দুইবার দেখা করতে যায়। এমনকি ওই নারীর যাবতীয় খরচ বহনও করত নাজমুল।

দীর্ঘ দিন সম্পর্কের কারনে নাজমুল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং তার নিজ উপজেলা শ্যামনগরে চলে আসতে বলে। নাজমুলের দেওয়া বিয়ের প্রলোভনে সে গত ৫ই জুন সকাল ৬ টার দিকে তার ৩ বছরের শিশু সন্তাকে রেখে সাতক্ষীরায় চলে আসে। এদিকে তাকে নিতে নাজমুল মোটরসাইকেল নিয়ে সাতক্ষীরায় অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষন অপেক্ষার পর দুই জনের মধ্যে সাক্ষাৎ হলে ওই নারী ও নাজমুল মোটরসাইকেল যোগে রাত ৯টার দিকে কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী গ্রামে পৌঁছে একটি বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানে বহুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে নাজমুল বাহিরে চলে যায়।

কিছুক্ষন পর নাজমুল ফিরে এসে তাকে বলে তার বাড়ী থেকে কেউ তাদের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছে না সেজন্য আজ রাতে কোথাও তাদের থাকতে হবে। পরবর্তীতে গভীর রাতে নাজমুল তাকে সাহেবখালীর একটি মৎস্য ঘেরের বাসায় নিয়ে যায়। মৎস্য ঘেরের বাসায় গিয়ে নাজমুল জেসমিনের সাথে জোরপূর্বক শাররীক সম্পর্ক করে।

পরে উৎপেতে থাকা একই গ্রামের জাহার আলী কয়ালের পুত্র মামুন সেখানে কিছু বিস্কুট ও খাবার পানি নিয়ে হাজির হয়। এবং নাজমুলর কাছে দেয়। নাজমুল তাকে সেগুলো খেতে দেয়। জেসমিন তার দেয়া খাবার ও পানি পান করার কিছুক্ষণ পর অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা তাকে রাতভর ধর্ষণ করে।

পরে জ্ঞান ফিরে জেসমিন দেখে তার সারা শরীরে পরিহিত কোন কাপড় নেই। তখন বুঝতে পারে তাকে পালাক্রমে ধর্ষন করা হয়েছে। এদিকে জেসমিনের অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে জেনে নাজমুল গ্যাং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

জেসমিন সেখানে কাউকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে কোন রকম অসুস্থ শরীর নিয়ে ঘটনাস্থান ত্যাগ করে রাস্তায় উঠে ৯৯৯ নং ফোন করেন এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম সহ সকলকে বিষয়টি অবগত করলে কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রহিম বিষয়টি তৎক্ষানিক শ্যামনগর থানাকে অবগত করেন এবং জেসমিনের নিকট থেকে তার পরিবারের ফোন নম্বর নিয়ে কল করে বিষয়টি তার পরিবারকেও অবগত করেন।

সংবাদ পেয়ে তার বাড়ীর অভিভাবকগন শ্যামনগরের উদ্দেশ্য রওনা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এদিকে শ্যামনগর থানা পুলিশের এসআই অশোক কুমার ও এএসআই মুরাদ উপস্থিত হয়ে ইউপি সদস্যসহ তাকে শ্যামনগর থানায় নিয়ে আসে।

বিষয়টি জানার জন্য অভিযুক্ত নাজমুলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এবং মামুনের সাথে যোগাযোগ করলে তার স্ত্রী রাশিদা বেগম জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬ টার সময় তার স্বামী মামুন বালিয়াডাঙ্গা তার বাবার বাড়িতে ছিলো। কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম ঘটনার সত্যতা শিকার করেন।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সানোওয়ার হুসাইন মাসুম সাংবাদিকদের বলেন, ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার অবনতির ফলে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের সদস্য পৌঁছানোর পর তার জবানবন্দী রেকর্ড করে মামলা রুজু করা হবে।