ভালবাসার রোমান্টিক গল্প –

লেখাঃ আফনান লারা

প্রেমের পাঁচফোড়ন

,,কারো একদিন হবো,,
,,,কারো এক রাত হবো,,,
,,,এর বেশি কারো রুচি হবে না,,
,,আমার এই বাজে স্বভাব কোনোদিন যাবে না,,
.
আমি আজ সারাটারাত শুধু গান গাইবো,আহা গান ছাড়া আর আছে টা কি
.
ভাই নওশাদ তোর কি পড়ালেখা নাই?কাল যে ইংরেজী পরীক্ষা ধারনা আছে তোর কোনো?
.
সূর্য ভাই আই এম রেডি ফর দিস ফালতু ইংলিশ পরীক্ষা
.
এখন আমি গান গাইবো
মে নেশামে ইয়া মুঝমে নেশা হে,হার তারাপ ধুয়া হি ধুয়া হে
রিয়াজ ব্রো মদ কি বেশি দিসিলি আমাকে?উড়তে মন চায় শুধু,আহা আহা
.
আমি তোকে মদ এক গ্লাস দিসিলাম জাস্ট,তাই না সূর্য?- প্রেমের পাঁচফোড়ন
.
হ্যাঁ তাই তবে নওশাদ এক গ্লাস খেয়ে থেমে থাকেনি,সে পুরো বোতল একাই শেষ করেছে,ওর কালকের পরীক্ষা গোল্লায় গেলো বলে
.
আমার কথা বাদ দে! শান্ত ভাই এত শান্ত কেন,তার হদিস ও মিলতেসে না,এত কিছু করলাম আমরা সন্ধ্যা থেকে,এত নাচগান করলাম তাকে তো জাস্ট একবার চোখে পড়লো তাও কিনা বেরিয়ে ডাইনিং থেকে পানি খেয়ে আবার রুমে চলে গেলো,কিরে রিয়াজ?শান্ত ভাইয়ের কি হলো?

তাকে শান্তা টাচ করেছে
রিয়াজের কথা শুনে সবাই হাসাহাসি শুরু করে দিলো,হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে
হঠাৎ ঠাস করে দরজা খোলার আওয়াজ হলো
শান্ত ফুল শার্ট পরা ছিল,হাতা উঠাতে উঠাতে সোজা হেঁটে এসে ধুমধাম মাইর শুরু করে দিলো নওশাদ,রিয়াজ আর সূর্যকে গনহারে মারতেসে সে
সবার আগে নওশাদকে মেরেছে তার পর রিয়াজকে তারপর সূর্যকে
মার খেয়ে সবাই চুপ করে বসে থেকে নিরবতা পালন করতেসে
শান্ত ফ্লোরে বসে গিয়ে রিয়াজের হাত থেকে ছোঁ মেরে মদের বোতলটা নিয়ে খাওয়া শুরু করে দিলো
.
আমি বুঝলাম না আমাদের এলোপাথাড়ি মারার মানে টা কি শান্ত?তুই সবসময় না বলে এসে আমাদের মারা শুরু করে দেস,আগে থেকে বললে আমরা একটু রেডি হয়ে নিতাম তারপর তোর সাথে ফাইট।।।
শান্ত মদ খাওয়া বন্ধ করে রিয়াজের দিকে চোখ তুলে তাকালো
রিয়াজ হালকা কেশে বললো না থাক,তোর সাথে মারামারিতে জীবনে ফার্স্ট হইনি শুধু শুধু পাঙ্গা নিবো না
.
শান্ত?এরকম চুপচাপ হয়ে গেছিস কেন?কি হয়েছে তোর?আজ তোর পরীক্ষা ভালো হয়নি নাকি?- প্রেমের পাঁচফোড়ন
.
শান্ত বোতলটা জানালার দিকে ছুঁড়ে মেরে ফেলে দিয়ে হাত দিয়ে মুখ ভালো করে মুছলো
চোখটা বন্ধ করে নিজেকে ঠিক করে বড় একটা নিশ্বাস ফেললো
তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বললো সূর্য!আমাকে আজ একটা মেয়ে থাপ্পড় মেরেছে!
.
কথাটা শুনে সূর্য আর রিয়াজ উঠে দাঁড়িয়ে গেলো মুখে হাত দিয়ে
নওশাদ মদ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে ছিল,শান্তর মুখে এই কথা শুনে সেও দাঁড়িয়ে গেলো
.
কি বললি?তোকে থাপ্পড়? কার এত বড় সাহস?সে কি তোকে চিনতো না?তুই পাল্টা মারিস নি?
.
নাহ পারলাম না

কেন পারবি?পারস খালি আমাদের মারতে
শান্ত উঠে চলে গেলো রুমের দিকে,আবারও দুম করে দরজা দিয়ে খাটে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লো,তারপর কিসব ভাবতে ভাবতে আবার উঠে বসে গেলো
মাথার উপর সো সো করে ফ্যান চলছে,আর কোনো শব্দ নেই,তাও বিরক্তি লাগছে তার
৫কদম পার হলেই আয়না,আয়নাতে শান্ত নিজেকে দেখছে,এতদিন ভার্সিটির যারা যারা ওর সাথে বাড়াবাড়ি করতো তাদের মেরে ও রড বানিয়ে দিতো আর সে কিনা আজ কিছুই পারলো না,মার খেয়ে আসলো?
গালে হাত দিয়ে মুছতেসে সে জোরে জোরে
শাহরিয়ার শান্তকে মারার ফল আমি তোমাকে বুঝাবো,তুমি মরা পর্যন্ত তিলে তিলে আমি তোমাকে কষ্ট দিব,নতুন স্টুডেন্ট হয়ে এত বড় সাহস তোমার,বেয়াদব মেয়ে একটা
ফ্যানের সো সো শব্দ আর সহ্য হচ্ছে না শান্তর
উঠে গিয়ে অফ করে দিলো,মনে পড়লো আজ কি ঘটেছিল

সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত ক্লাস ভার্সিটিতে,প্রতিদিনের মত শান্ত ২ঘন্টা দেরি করে ভার্সিটিতে পোঁছালো,ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয় বলেই তার এসময়ে আসা,ইচ্ছে করেই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে না সে,কি দরকার,পড়লে পড়বে না পড়লে নাই,বাবার কথা সম্মান করেই বলে সে পড়াশুনা ধরে আছে এতদিন,সারাবছর একটুও পড়ে না শান্ত- প্রেমের পাঁচফোড়ন
শুধু পরীক্ষার আগের দিন খাওয়া দাওয়া ঘুম সব অফ করে পড়ে আর পরীক্ষায় ফার্স্ট ও হয়
যাই হোক ধীরে ধীরে সে ভার্সিটির সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় যাচ্ছে,তার ক্লাস রুম সেখানেই
উপরে উঠেই দেখলো তার থেকে জুনিয়র একটা ছেলে আরেকটা মেয়েকে ডিস্টার্ব করতেসে সেটা চোখে পড়তেই দাঁড়িয়ে যায় শান্ত
ছেলেটাকে সে চিনে,নাম ধরে বললো এসব কি?
সে বললো ভাই নাক গলাবেন না
মেয়েটা এ সুযোগে পালিয়ে গেলো
ছেলেটা হাত উঠিয়ে শান্তর ঘাঁড়ে রেখে বলে none of your business bro!
সো দূরে থাকেন,এটা আমার পার্সোনাল ম্যাটার
মেয়েটা পালানোর সময় ধাক্কা খেলো অাহানার সাথে
আহানা আজ প্রথমদিন ভার্সিটিতে এসেছে,যখন নিজের ক্লাসরুম খুঁজতেসিলো সে তখনই মেয়েটার সাথে ধাক্কা লেগে গেলো তার
.
সরি আপু,কি হয়েছে?তুমি এরকম হাঁপাচ্ছো কেন?

আপু হেল্প মি,ঐ ছেলেটা আমাকে ডিস্টার্ব করতেসে,আমাকে টাচ করার চেষ্টাও করতেসিলো
মেয়েটা কথা বলতে বলতে কেঁদে দিলো,টাচের কথা শুনে আহানার মেজাজ গেলো গরম হয়ে,কোনটা?
মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বললো ব্লু শার্ট পরাটা
আহানা তাকিয়ে দেখলো দুজনেই ব্লু শার্ট পরেছে
আহানা রেগে গিয়ে কাছে এসে দাঁড়ালো
শান্ত ঐ ছেলেটার কলার ধরে ওকে ঝাঁকিয়ে বললো তোর সাহস তো কম নয় আমার সাথে বড়বড় কথা বলিস
আহানা ভাবলো এরকম গুন্ডা টাইপ ছেলেটায় হবে যে ঐ আপুটাকে টাচ করার চেষ্টা করেছে
আহানা হুট করে একটা চড় মেরে দিলো শান্তর গালে
শান্ত ছেলেটার কলার ছেড়ে অবাক হয়ে পাশে তাকালো আহানা মুখটা ফুলিয়ে বললো লজ্জা করে না মেয়েদের tease করো?প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে বিচার দিব তোমার নামে,বেয়াদব ছেলে কোথাকার
আহানা কথাগুলো বলে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো- প্রেমের পাঁচফোড়ন
শান্ত গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে,বিশ্বাস হচ্ছে না তার! একটা মেয়ে ওকে চড় মারলো আবার চলেও গেলো
যে ছেলেটাকে এতক্ষণ কেলানি দিচ্ছিলো সে নিচে বসে শান্তর পা জড়িয়ে বললো ভাই আমাকে মাফ করে দিন আমার জন্য আপনাকে ঐ আপুটা মেরেছে
ছেলেটা খুব ভালো করে জানে শান্ত এখন মেয়েটার থাপ্পড় খেয়ে যে রাগের সাগরের স্রোত তার মাঝে বইছে তা ছেলেটার উপরই ঝাড়বে,যা হয়েছে সব ওর কারণের হয়েছে,ও যদি এত প্যাঁচাল না করতো আজ শান্ত চড়টা খেতো না
শান্ত চুপচাপ রোবটের মত হেঁটে তার ক্লাসে ফিরে গেলো,চারপাশটা কেমন যেন লাগতেসে,মনে হচ্ছে দেয়াল ও আমার উপর হাসতেসে,এটা কি ছিল?এত বড় সাহস?একে কিমা করবো নাকি ফ্রাই করবো,কোনটা করলে আমার চড়ের প্রতিশোধ উঠানো যাবে,ছেলেদের সাহস হয় না আমার গায়ে হাত তুলার আর সেখানে একটা মেয়ে এসে কিনা আমাকে মেরে চলে গেলো?এত বড় সাহস!
ছেলেটা আল্লাহর নাম নিয়ে পালালো,আগামী ১০দিনেও এই ভার্সিটিতে আসবো না বাপরে,এক বাঁচা বেঁচেছি

খুব রাগ উঠতেসে আমার!!!
শান্ত ফুলের টবটা হাতে নিয়ে আয়নায় ছুঁড়ে মারলো,ছাড়বো না আমি ওরে,তিলে তিলে কষ্ট দিব,আমার পায়ে এসে বলবে ক্ষমা করেন
বাই দ্যা ওয়ে আজ মনে হয় মদ একটু বেশি খাওয়া হয়ে গিয়েছে,এখন ঘুমাতে হবে,মাথাটা চক্কর দিচ্ছে খুব!
শান্ত চুপচাপ আবার বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো
ফোন বাজতেসে,মুখটা বেডশিটের নিচে রেখেই হাত বাড়িয়ে বিছানার পাশের টেবিলে হাতিয়ে অনেক খুঁজে ফোনটা নিয়ে রিসিভ করলো সে
ওপার থেকে একটা কন্ঠ ভেসে উঠলো,বাবার ভয়েস এটা- প্রেমের পাঁচফোড়ন
এই পৃথিবীতে বাবা ছাড়া শান্তর আর আপন কেউ নেই,যারা আছে তারা সৎ
সৎ মা,সৎ ভাইবোন,তারা কেউই শান্তকে মেনে নেয় না তাই শান্ত নিজ থেকেই একটা ফ্ল্যাটে একা থাকে তার সাথে তার ৩বন্ধু থাকে,রিয়াজ,সূর্য আর নওশাদ
.
হুম বাবা বলো,ডিনার করেছো?

হুম
আবার ড্রিংক করেছিস?তোকে মানা করি নাই আমি?কথা শুনিস না কেন?শরীরের জন্য এটা কত ক্ষতিকর জানিস না?
.
বাবা সরি,কি করবো মাঝে মাঝে নিজেকে সামলাতে খেতে হয়,তুমিও তো খাও,আর আমি কি এখন বাচ্চা নাকি কদিন বাদে অফিস জয়েন করবো,মাস্টার্স ফাইনালটা দিয়েই
.
নিজের খেয়াল রাখিস শান্ত,আমি চেয়েও তোর খেয়াল রাখতে পারি না
.
বাবা নিজেকে দোষারোপ করবা না একদম,আমি তো এখানে নিজের ইচ্ছাতেই এসেছি তাহলে এটা কেন বলো?যাও ঔষুধ খেয়ে ঘুমাও,লাভ ইউ বাবা
শান্ত ফোনটা রেখে দিলো,আজ মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে,আমাকে ছোটবেলায় একটা ছেলে মেরেছিল বলে মা কেঁদেছিল,আর আজ মা থাকলে আজও কাঁদত নিশ্চয়
নাহ ঘুম চলে গেছে,আর আসবে না ঘুম
যাই বারান্দা বিলাস করবো,হাহা,মানুষ করে বৃষ্টি বিলাস আর আমি করবো বারান্দা বিলাস
এক কাপ কফি হলে জোস হতো,মা যদি থাকত তাহলে কফি বানিয়ে দিতো এখন
নাহ মা যেহেতু নেই সব কাজ আমাকেই করতে হবে,এতদিন তো তাই করে আসছি- প্রেমের পাঁচফোড়ন
শান্ত আকাশের দিকে তাকালো

মা?তুমি খাবে?তোমার জন্য বানাই?খাবে না?ওহ ঠিক আছে তাহলে আমিই খাবো
শান্ত দরজা খুলে বের হলো,প্রথমেই ওর নজর গেলো ফ্লোরের দিকে,রিয়াজের গায়ের উপর পা উঠিয়ে নওশাদ ঘুমায়,তার উপর পা তুলে সূর্য ঘুমায়,বলদগুলো পরীক্ষার আগের দিন মদ খেয়ে পড়ে থাকে সবসময়
শান্ত একটা কাঁথা আলমারি থেকে নিয়ে এসে ওদের গায়ে জড়িয়ে দিলো,এরা তার কাছে বন্ধু কম ভাই বেশি,বিপদে আপদে সবসময় ওরা শান্তর পাশে থাকে
কফি বানিয়ে আবারও রুমে ফিরে আসলো সে,আকাশের দিকে চেয়ে মায়ের সাথে কিছু কথা বললো শান্ত আর বললো সেই মেয়েটার কথা যে ওকে মেরেছে,তারপর কিসব ভেবে রুমে ফিরে আসলো,ঘুম পাচ্ছে খুব
৪টা বছর ধরে এই ফ্ল্যাটে সে থাকে,বাবার থেকে বহুদূরে
ঈদে গিয়ে দেখে আসে,থাকা আর হয়ে উঠে না,থাকলেই জ্বালা যন্ত্রনা শুরু হয়ে যায় তার সৎ ভাইবোনদের,এখানে একা বেশ আছে সে,বাবা খরচ চালায়,কিছুদিন পর সে বাবার খরচ চালাবে অবশ্য বাবা হয়ত টাকা নিতে চাইবে না,অভাব নেই তার তাও আমি আমার প্রথম সেলারি দিয়ে তাকে গিফট দিব কিছু একটা
কফির মগটা হাতে ঝুলিয়েই শান্ত ঘুমিয়ে পড়লো বিছানায়,হাতে থাকা কফির মগটা ঝুলতেসে,আজ আর ফ্যান চালানো হয়নি,এসি চালালো,নামেই এসি রাখসে,শান্তর এসি একদম পছন্দ না,কিন্তু কি করবে ফ্যানের গটগট শব্দের চেয়ে এটা বেটার
চলবে- … প্রেমের পাঁচফোড়ন