শেখ আল-নূর আহম্মেদ (ইমন)
কালিগঞ্জ.সাতক্ষীরা.প্রতিনিধি

গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক সমর্থনে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় কর্মসূচি পালন করেছে জনকল্যাণ সংস্থা । ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল দশটায় কালিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সম্মুখে অবস্থান নেয় সংস্থাটি।উক্ত অনুষ্ঠানে জনকল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি দেশ বা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু তার জীবিকা, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির উপর প্রভাব রাখে। কিন্তু সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনে বেশ কিছু দেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ প্রকৃতির বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতা দেখা গিয়েছে। এর ফলে জনজীবন ও বন্য পশু-পাখি ঝুঁকির মুখে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে জানা যায় যে , ২০৫০ সালের মধ্যে ২ কোটির বেশি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
উপকূলীয় অঞ্চল তথা সাতক্ষীরা জেলা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে । অতি বৃষ্টি , অনাবৃষ্টির ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে যার কারণে কৃষি জমি ও মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সাথে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করার ফলে প্রতিবন্ধী শিশুরা একজন স্বাভাবিক মানুষের মত সাইক্লোন সেল্টারে অবস্থান করতে পারে না। যার জন্য তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফলশ্রুতিতে খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

খাবার পানি আনতে যাইতে হয় কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে । অনেক সময় পথের মধ্যে অনেক মা বোন ইভটিজিং ও ধর্ষণের এর শিকার হচ্ছে । এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীদের শারীরিক নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে যার কারনে তাদের স্বামী তাদেরকে ডিভোর্স দিচ্ছে। এতে তারা লোক লজ্জায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। সকল সমস্যা দূর করনের জন্য জনকল্যাণ সংস্থা ইতি মধ্যে ফ্রাইডে ফর ফিউচার এর সাথে একমত প্রকাশ করে টানা চার সপ্তাহ জলবায়ু সুবিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান লিখে জলবায়ু অবরোধ কর্মসূচি পালন করে এবং আগামীতে অব্যাহত রাখবে । যুবকদের জলবায়ু সম্পৃক্ত করার জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা তৈরি করে কাজ করে যাচ্ছে ।
এ সময় জনকল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি মোঃ মারুফ হাসান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে বন উজাড় হচ্ছে । বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। বাড়ছে সাইক্লোন, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাড়েছে নদী ভাঙন। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ুর নায্য অধিকার আদায়ের জন্য সকলকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনকল্যাণ সংস্থার কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মহিবুল্লাহ , শাহিনুর রহমান, নূর হোসেন নাহিদ, কায়ুম রহমান,মনিমালা গাইন প্রমুখ।